পাঞ্জেরী কবিতা – ফররুখ আহমেদ

পাঞ্জেরী কবিতা – পাঞ্জেরি’ কবিতায় জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার কর্ণধার পাঞ্জেরিকে বন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের তীব্র বিক্ষোভের কথা ভেবে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন কবি।

 

ফররুখ আহমেদ Gurukul Live পাঞ্জেরী কবিতা - ফররুখ আহমেদ

 

সৈয়দ ফররুখ আহমদ (জুন ১০, ১৯১৮ – অক্টোবর ১৯, ১৯৭৪) একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী কবি। এই বাঙালি কবি ‘মুসলিম রেনেসাঁর কবি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তার কবিতায় বাংলার অধঃপতিত মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের অণুপ্রেরণা প্রকাশ পেয়েছে। বিংশ শতাব্দীর এই কবি ইসলামি ভাবধারার বাহক হলেও তার কবিতা প্রকরণকৌশল, শব্দচয়ন এবং বাক্‌প্রতিমার অনন্য বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। আধুনিকতার সকল লক্ষণ তার কবিতায় পরিব্যাপ্ত। তার কবিতায় রোমান্টিকতা থেকে আধুনিকতায় উত্তরণের ধারাবাহিকতা পরিস্ফুট। “সাত সাগরের মাঝি” কাব্যগ্রন্থে তিনি যে-কাব্যভাষার সৃষ্টি করেছেন তা স্বতন্ত্র এবং এ-গ্রন্থ তার এক অমর সৃষ্টি।

 

পাঞ্জেরী কবিতা – ফররুখ আহমেদ

 

পাঞ্জেরী কবিতা - ফররুখ আহমেদ
পাঞ্জেরী কবিতা – ফররুখ আহমেদ

 

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলার এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
দীঘল রাতের শ্রান্তসফর শেষে
কোন দরিয়ার কালো দিগন্তে আমরা পড়েছি এসে?
এ কী ঘন-সিয়া জিন্দেগানীর বা’ব
তোলে মর্সিয়া ব্যথিত দিলের তুফান-শ্রান্ত খা’ব
অস্ফুট হয়ে ক্রমে ডুবে যায় জীবনের জয়ভেরী।
তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
সম্মুখে শুধু অসীম কুয়াশা হেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
বন্দরে বসে যাত্রীরা দিন গোনে,
বুঝি মৌসুমী হাওয়ায় মোদের জাহাজের ধ্বনি শোনে,
বুঝি কুয়াশায়, জোছনা- মায়ায় জাহাজের পাল দেখে।
আহা, পেরেশান মুসাফির দল।
দরিয়া কিনারে জাগে তক্দিরে
নিরাশায় ছবি এঁকে!
পথহারা এই দরিয়া- সোঁতারা ঘুরে
চলেছি কোথায়? কোন সীমাহীন দূরে?
তুমি মাস্তুলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
একাকী রাতের গান জুলমাত হেরি!
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
শুধু গাফলতে শুধু খেয়ালের ভুলে,
দরিয়া- অথই ভ্রান্তি- নিয়াছি ভুলে,
আমাদেরি ভুলে পানির কিনারে মুসাফির দল বসি
দেখেছে সভয়ে অস্ত গিয়াছে তাদের সেতারা, শশী।
মোদের খেলায় ধুলায় লুটায়ে পড়ি।
কেটেছে তাদের দুর্ভাগ্যের বিস্বাদ শর্বরী।
সওদাগরের দল মাঝে মোরা ওঠায়েছি আহাজারি,
ঘরে ঘরে ওঠে ক্রন্দনধ্বনি আওয়াজ শুনছি তারি।
ওকি বাতাসের হাহাকার,- ও কি
রোনাজারি ক্ষুধিতের!
ও কি দরিয়ার গর্জন,- ও কি বেদনা মজলুমের!
ও কি ধাতুর পাঁজরায় বাজে মৃত্যুর জয়ভেরী।
পাঞ্জেরি!
জাগো বন্দরে কৈফিয়তের তীব্র ভ্রুকুটি হেরি,
জাগো অগণন ক্ষুধিত মুখের নীরব ভ্রুকুটি হেরি!
দেখ চেয়ে দেখ সূর্য ওঠার কত দেরি, কত দেরি!!

পাঞ্জেরী কবিতার মূলভাবঃ

‘রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরী?’ জানতে চেয়েছিলেন এক আপাদমস্তক কবি। বলেছেন, ‘এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?/সেতারা হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?/তুমি মাস্তুলে আমি দাঁড় টানি ভুলে;/অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরী।’

নিশ্চিতভাবে এই কবি মুসলিম ঐতিহ্যবাদের কথা বলেছেন। ইসলামের পুনর্জাগরণের আহ্বান সঞ্চারিত করেছেন তিনি। প্রাপ্তি বা জাগতিক কারণে নয়, মতাদর্শিক প্রণোদনায় তিনি ইসলামের মর্মবাণীর কাব্যরূপ দিয়েছেন। মুসলিম রেনেসাঁর কাব্যনায়ক হিসাবে পরিচিতি এই কবির নাম ফররুখ আহমদ।

ফররুখ আহমেদ 1 Gurukul Live পাঞ্জেরী কবিতা - ফররুখ আহমেদ

 

 

পাঞ্জেরী কবিতা আবৃত্তিঃ

https://youtu.be/uVtRK538Cmw

 

আরও দেখুন: