৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন, কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ !

এ বছর ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে দেশ। কৃষকদের বুক ভরা ছিলো আশা। আর কয়েক দিন পর ফসল উঠতে পারতো ঘরে, সংসারে আসতো সচ্ছলতা। চোখের মধ্যে ছিল সোনালি স্বপ্নের ঝিলিক। কিন্তু তিস্তা নদীর আকস্মিক বন্যায় কৃষকের কপালে এখন হচ্ছে চিন্তার ভাঁজ।

৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন, কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

উজানে ভারত গজলডোবা ব্যারাজের সবকয়টি গেট খুলে দেওয়ায় ভাটি অঞ্চলে তিস্তা অববাহিকায় পানির পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তাবেষ্টিত লালমনিরহাট, নীলফামারী আর রংপুর এর গঙ্গাচড়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে আকস্মিক একটি বন্যা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে পীরগাছা আর কাউনীয়

উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ফসলী জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। মধ্যরাতের দিকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার আশংকা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ এবং অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এ বছর ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করছে দেশ। image collected and edited for reuse
তিস্তা বাধ

বুধবার (২০ অক্টোবর) বিকালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তার পানি দোয়ানি পয়েন্টে সকালের দিকে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুপুর ১২টার দিকে ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বিকাল ৩টার দিকে তিন সেন্টিমিটার কমে ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে ভাটিতে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলে দিয়েছে কারন তিস্তা ব্যারাজের সড়কের ‘ফ্লাট বাইপাস ভেঙে গেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, দেশের উজানে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সিকিম, দার্জিলিং, জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে তিস্তা নদীর পানি সমতল বাংলাদেশে মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করেছে।

বর্তমানে ডালিয়া পয়েন্টে ৫৩.২০ মিটার লেভেলে বিপৎসীমার ৬০ সেমি ওপর অবস্থান করছে। বিগত ১২ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি সমতল ডালিয়া পয়েন্টে প্রায় ২০০ সেমি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পানি বৃদ্ধি বুধবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আরও ১০ থেকে ১৫ সেমি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) ভোর নাগাদ এই পানি বিপৎসীমার নিচে চলে আসতে পারে।

এদিকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ফ্লাট বাইপাস ভেঙে যাওয়ায় বড়খাতার বাইপাস সড়কের তালেব মোড় এলাকার সড়কটিতে পানি ছুঁইছুঁই করছে। এ ভাঙনের ফলে এরই মধ্যে ওই এলাকার ২০০টি ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পানির তোড়ে ভেঙে গেছে নীলফামারীর ডিমলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ নামক স্থানের ৪০০ মিটার গ্রোয়েন বাঁধ। এতে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ৪০০ পরিবারের ঘরবাড়ি।
আকস্মিক বন্যার পানির তোড়ে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর, লক্ষ্মীটারি, কোলকোন্দ, নোহালী ও গজঘণ্টার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। অনেক পরিবার এখন পানিবন্দি হয়ে আছে। নদীঘেঁষা চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অনেকেই উঁচু জায়গায়

কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ এবং অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এ বছর ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করছে দেশ।, তিস্তা নদীর আশে পাশের এলাকার থেকে নেওয়া ছবি image collected and edited for reuse
তিস্তা নদীর আশে পাশের এলাকার থেকে নেওয়া ছবি

আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে। লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের চরইশরকুল, ইছলি, পূর্ব ইছলি, পশ্চিম ইছলি ও শংকর, বাগেরহাট, কেল্লারহাটসহ বেশকিছু নিচু এলাকায় কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে আছে। পানি বাড়ছে তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে।

লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের চরইশরকুল গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, ‌‌‘শীতের শুরুতে বাজারে আগাম আলুর প্রচুর চাহিদা থাকে। দামও ভাল পাওয়া যায়। কিন্তু তিস্তার পানি বাড়তে থাকায় এবারও ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাবে।

গ্রামের উপজেলার পূর্ব ইছলি আব্দুর রহমান বলেন, ধান আর কয়েক দিন পর কাটা যেত।ঘরে উঠত ফসল। এ বন্যায় কিন্তু ফসলের ব্যাপল ক্ষতি হবে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল হাদি বলেন, তিস্তা প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিল। জেগে উঠেছিল চর। সেখানে কৃষকরা ফসল ফলেছিল। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় সব তলিয়ে গেছে।

পাউবোর ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদ্দৌলা প্রিন্স বলেন, উজানে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানির চাপে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে নদীর পানিপ্রবাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে আগামীকাল এর মধ্যে পানি বিপদসীমার নিচে নেমে আসতে পারে বলে জানা গেছে।

আরো জানুন:

২০২১ সালে সাড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশ: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার বক্তব্যে বলেছেন, যখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ৩ শতাংশের থেকে বেশি সংকোচন দেখা যাচ্ছে, সেখানে সময় মতো হস্তক্ষেপ এর কারণে বাংলাদেশ থেকে ২০২০ আর ২০২১ সালে এর যথাক্রমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা হয়েছে করেছে।
(২০ অক্টোবর) বুধবার থাইল্যান্ডের রাজধানীতে শুরু হওয়া জাতিসংঘের এশিয়া প্যাসিফিক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক আর কমিশনের সামাজিক (এসকাপ) সামষ্টিক অর্থনৈতিক এর নীতি, দারিদ্র‍্য ও উন্নয়নের অর্থায়ন (এমপিএফডি) এর সংক্রান্ত তৃতীয় পাঠানো এক অধিবেশনে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় মন্ত্রী এ কথা গুলো বলেছেন।

অর্থমন্ত্রী image collected and edited for reuse
অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল

ব্যাংককে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দূতাবাসের অর্থনৈতিক উইং হতে পাঠানো আর অর্থ মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র তথ্য হতে কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলামের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই অধিবেশনে ইউনেস্কাপের এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারির বিশেষ আমন্ত্রণে কি-নোট স্পিকার হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এ কমিটির অধিবেশন এর প্রতি দুই বছর এর পর অনুষ্ঠিত হয় আর এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মন্ত্রী আর ঊর্ধ্বতন সকল সরকারি কর্মকর্তারা এতে যোগদান করেছিলেন।

ভিডিও এর-বার্তার মাধ্যমে উপস্থাপিত সকল মূল বক্তব্যের মধ্যে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের উনয়ন অভিযাত্রা এর অবিস্মরণীয় পথ পরিক্রমার ওপরে আলোকপাত করে বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ আমাদের উন্নয়নে এর পথে বিশাল একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর অসাধারণ একটি নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ তার অর্থনীতিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার পথে অনেকদূর অগ্রসর হয়েছে। যখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ৩ শতাংশের বেশি সংকোচন দেখা যাচ্ছে, সেখানে সময় মতো হস্তক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ ২০২০ ও ২০২১ সালের যথাক্রমে ৩.৫ শতাংশ আর ৫.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিলো’।

অর্থমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘প্রমাণ- ভিত্তিক নীতি বিশ্লেষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চাহিদাভিত্তিক আঞ্চলিক উপদেষ্টা পরিষেবার মাধ্যমে ইউনেস্কাপ বাংলাদেশকে বিরূপ পরিবেশে টিকে থাকার সক্ষমতা তৈরি করতে এবং আঞ্চলিক সংযোগকে গভীর করতে সহায়তা করবে। সেই সঙ্গে সকল স্বার্থ সংলিষ্টদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে সমর্থন এবং বহু অংশীদারিত্ব বিকাশে সহায়তা করবে।’ তিনি ইউনেস্কাপ এর একটি বিষয়ভিত্তিক উপদেষ্টা গোষ্ঠী গঠনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান আর আশা করে থাকেন যে, এটি সদস্য দেশগুলোকে তাদের উপযুক্ত সামষ্টিক-অর্থনৈতিক সকল নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তা করে থাকে, এমন সামষ্টিক অর্থনৈতিক সকল নীতি আর পরামর্শ দিতে সক্ষম হবে।

এ সম্মেলনের মধ্যে মূল কমিটির আলোচনার পাশাপাশি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনা আর সাইড ইভেন্ট এর আয়োজন করা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে অংশগ্রহণকারীদেরকে সকল ধরনের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করবে।

থাইল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী মিস্টার আড়খোম টারম্প পিতিয়া আইসিথ, ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী মিসেস শ্রী মুলিয়ানি ইন্দ্রবতী, ভুটানের অর্থমন্ত্রী মিস্টার লিওনপো নামগে শেরিং, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী এইচ মিস্টার ওমর আইয়ুব খান উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন।

অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামাল সম্পর্কে আরো জানুন:

উইকিপিডিয়া: অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামাল

আমাদের সাথে যোগাযোগ

1 thought on “৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন, কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ !”

Comments are closed.